Monday , November 21 2016
[X]
Home / স্বাস্থ্য সেবা / কিডনিকে সুস্থ রাখার জন্য যা করা উচিৎ

কিডনিকে সুস্থ রাখার জন্য যা করা উচিৎ

সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষ দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগে আক্রান্ত। বর্তমানে এটি একটি প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা। আক্রান্ত ব্যক্তিকে অনেক কঠিন জীবন  যাপন করতে হয়। আস্তে আস্তে কিডনি ডায়ালাইসিস বা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। তাই আসুন জেনে নিই কিডনিকে সুস্থ রাখার কিছু নিয়ম-কানুন।

 

১। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পারিবারিক ইতিহাস জানুন

এই জানার ফলেই আপনি আপনার রিস্ক ফ্যাক্টর সম্পর্কে প্রস্তুতি নিতে পারবেন। যদি আপনার পিতা-মাতার বা আত্মীয়-স্বজনের কারো কিডনি রোগ থেকে থাকে তাহলে আপনার এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি কতটুকু এবং প্রতিরোধের জন্য আপনার কি করা উচিৎ তা জেনে নিতে একজন চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। আপনার যদি অনেক বেশি পরিমাণে ঝুঁকি থাকে তাহলে আপনার কিডনি পরীক্ষা করে এর সুস্থতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। কারণ বেশিরভাগ কিডনি রোগ ধরা পড়ার পূর্বে তেমন কোন লক্ষণ প্রকাশ করেনা।

 

। ব্লাড সুগার লেভেল নিয়মিত চেক করুন

যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের কিডনি রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই আপনার ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখাটা খুবই জরুরী। আর ডায়াবেটিস রোগীদের কিডনির কার্যকারিতার টেস্টগুলো নিয়মিত করানো প্রয়োজন যাতে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করা যায়। ডায়াবেটিস রোগীদের প্রাথমিক অবস্থায় কিডনির সমস্যা  নির্ণয় করা গেলে কিডনি ড্যামেজ কমানো বা প্রতিরোধ করা যায়।

 

৩। ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখুন

হাইপারটেনশন স্ট্রোক ও কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এছাড়াও কিডনি ড্যামেজের ঝুঁকিও বৃদ্ধি করে। যদি ডায়াবেটিসের সাথে হাইপারটেনশন ও থাকে তাহলে ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়। তাই নিয়মিত ব্লাড প্রেশার চেক করতে হবে। স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করুন এবং নিয়মিত হাইপারটেনশনের ঔষধ সেবন করুন। কোলেস্টেরলের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজনীয়।

 

 

৪। সক্রিয় থাকুন

প্রি-ডায়াবেটিকের রোগীরা যাদের ডায়াবেটিক হওয়ার ঝুঁকি বেশি তারা নিয়মিত আধা ঘন্টা ব্যায়াম করে রক্তের সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। ব্যায়ামের মাধ্যমে কোলেস্টেরল, ব্লাড প্রেশার এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। মাত্রাতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিস ও হাই ব্লাড প্রেশার হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। যা কিডনি রোগ হওয়ার  ও ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

 

৫। স্বাস্থ্যকর খাদ্য খান 

স্বাস্থ্যকর ফল ও শাকসবজি খেলে অনেক ধরণের রোগ ও সেই সাথে কিডনি রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়। লবণ গ্রহণের পরিমাণ কমানো উচিৎ এবং প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ বাদ দিন। এর পরিবর্তে হালকা ও তাজা খাবার খান।

 

বীর্যপাত বন্ধ রেখে অধিক সময় যৌন মিলন করার পদ্ধতি জেনে নিন!

 

৬। প্রোবায়োটিক গ্রহণ করুন

প্রোবায়োটিক বা ভালো ব্যাকটেরিয়া কিডনির বর্জ্য নিষ্কাশনে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়াতেও সার্বিকভাবে সাহায্য করে। প্রোবায়োটিক শুধু কিডনির জন্যই না সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্যই উপকারী। তাই নিয়মিত প্রোবায়োটিক গ্রহণ করুন।

 

৭। ফসফরাস গ্রহণ সীমিত করুন

যখন কিডনি ঠিকমত কাজ করেনা তখন ফসফরাস শরীরে জমা হয় এবং মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করে যেমন- হাড়ের সমস্যা, হার্টের সমস্যা এবং টিস্যু শক্ত হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। তাই উচ্চ মাত্রার ফসফরাস সমৃদ্ধ খাবার যেমন- কার্বোনেটেড সফট ড্রিঙ্কস, প্রসেসড খাবার এড়িয়ে চলুন। মানুষের দৈনিক ৮০০-১২০০ মিলিগ্রাম ফসফরাস প্রয়োজন। এর চেয়ে অতিরিক্ত ফসফরাস শরীর থেকে সুস্থ কিডনির মাধ্যমে বাহির হয়ে যায়।

এছাড়াও শরীর ও কিডনি সুস্থ রাখার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন সবার। পানি ও অন্যান্য তরল খাবার বেশি পরিমাণে খেলে কিডনি পরিষ্কার থাকে সোডিয়াম, ইউরিয়া এবং অন্য বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়ার মাধ্যমে। উচ্চমাত্রার আমিষ জাতীয় খাবার ও মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন সি গ্রহণ এড়িয়ে চলুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যথাজাতীয় ঔষধ নিয়মিত সেবন করা উচিৎ হয়। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অভ্যাস যেমন- ধূমপান, মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে ত্যাগ করুন।

 

আরো পড়ুনঃ

 

Content Protection by DMCA.com

Check Also

জেনে নিন স্ট্রবেরীর অসাধারণ ৭ স্বাস্থ্যগুণ!

জেনে নিন সুস্বাদু স্ট্রবেরীর অসাধারণ ৭ স্বাস্থ্যগুণ!

জেনে নিন সুস্বাদু স্ট্রবেরীর অসাধারণ ৭ স্বাস্থ্যগুণ!   লাল রঙের ছোট ফল স্ট্রবেরি। বিদেশী এই …

Loading...