Monday , November 21 2016
[X]
Home / অন্যান্য / জেনে নিন রমজানের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল!

জেনে নিন রমজানের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল!

অপরিসীম ফজিলত অর্জনের মাস রমজান। রমজান আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নেয়ামত। সওয়াব অর্জনের বসন্ত মৌসুম। পরকালের পাথেয় হাসিলের সুবর্ণ সুযোগ। পিছে পড়াদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত মুহূর্ত। পাপী-তাপীদের পাপমুক্তির মাহেন্দ্রক্ষণ। রমজানের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল সা. বলেছেন ‘রমজান বরকতময় মাস তোমাদের দুয়ারে উপস্থিত হয়েছে। পুরো মাস রোজা পালন আল্লাহ তোমাদের জন্য ফরজ করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের দরজাগুলো। দুষ্ট শয়তানদের এ মাসে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে দেয়া হয়। এ মাসে আল্লাহ কর্তৃক একটি রাত প্রদত্ত হয়েছে, যা হাজার মাস থেকে উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে বঞ্চিত হলো (মহা কল্যাণ থেকে)।’ [তিরমিজি : ৬৮৩] রহমত, বরকত আর মাগফিরাতে ভরপুর এ মাসের গুরুত্বপূর্ণ অনেক আমল রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বপেক্ষা ১০টি আমল হলো

 
রোজা রাখা
ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি রুকন রোজা। আর রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। সেজন্য রমজানের প্রধান আমল সুন্নাহ মোতাবেক রোজা পালন করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে।’ [সুরা বাকারা : ১৮৫]। রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে রাসুল সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ইখলাস নিয়ে অর্থাৎ একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার জন্য রমজানে রোজা পালন করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।’ [বুখারি : ২০১৪] অন্য হাদিসে আছে ‘যে কেউ আল্লার রাস্তায় (অর্থাৎ শুধুমাত্র আল্লাাহকে খুশী করার জন্য) একদিন রোজা পালন করবে, তাদ্বারা আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের রাস্তা পরিমাণ দূরবর্তীস্থানে রাখবেন।’ [মুসলিম : ২৭৬৭]

 
জামায়াতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা
রমজান মাসে ফরজ নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। অনেকে ফরজ নামাজ আদায়ে উদাসীন থাকেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ।’ [সুরা নিসা : ১০৩] অন্য আয়াতে বলা হয়েছে ‘অতএব সেই নামাজ আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা নিজদের নামাজে অমনোযোগী।’ [সুরা আলমাউন : ৪-৫] এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, ‘আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! কোন আমল জান্নাতের অতি নিকটবর্তী? তিনি বললেন, সময় মতো নামাজ আদায় করা।’ [মুসলিম : ২৬৩]

 
সাহরি খাওয়া
রোজা পালনে সাহরি খাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাহরি খাওয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে। অনেকে সাহরি খান না, অনেকে আগ রাতে খেয়েই শুয়ে পড়েন। এটা সুন্নাহ পরিপন্থী। কারণ ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা সাহরি খায় না। হাদিসে এসেছে রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাদের ও আহলে কিতাবিদের রোজার মাঝে পার্থক্য হলো সাহরি গ্রহণ। [মুসলিম : ২৬০৪] অন্য হাদিসে এসেছে, ‘সাহরি হলো বরকতময় খাবার। তাই কখনো সাহরি খাওয়া বাদ দিয়ো না। এক ঢোক পানি পান করে হলেও সাহরি খেয়ে নাও। কেননা সাহরির খাবার গ্রহণকারীকে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর ফেরেশতারা স্মরণ করে থাকেন।’ [মুসনাদ আহমাদ : ১১১০১]

 
নিজে ইফতার করা এবং অন্যকে করানো
সিয়ামের পূর্ণ সওয়াব পাওয়ার জন্য দ্রুত ইফতার করতে হবে। সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করার বিরাট ফজিলত। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সিয়াম পালন করবে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে, খেজুর না পেলে পানি দিয়ে ইফতার করবে। কেননা পানি হলো অধিক পবিত্র।’ [আবু দাউদ : ২৩৫৭] অন্য হাদিসে হজরত আবু যর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেছেন, ‘দীন বিজয়ি হবে, যে যাবৎ মানুষ দ্রুত ইফতার করবে। কারণ, ইহুদি-নাসারারা তা বিলম্বে করে।’ [আবু দাউদ : ২৩৫৫]

 

 

 
অপরকে ইফতার করানোও একটি বিরাট সওয়াবের কাজ। প্রতিদিন কমপক্ষে একজনকে ইফতার করানোর চেষ্টা করা উচিত। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে, তাদের উভয়ের সওয়াব হতে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।’ [ইবনে মাজাহ : ১৭৪৬]

 
তারাবির নামাজ পড়া
তারাবির নামাজ আদায় রমজান মাসের অন্যতম আমল। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াব হাসিলের আশায় রমজানে কিয়ামু রমজান (সালাতুত তারাবিহ) আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।’ [বুখারি : ২০০৯] তারাবির সালাত তার হক আদায় করে অর্থাৎ ধীরস্থীরভাবে আদায় করতে হবে। তারাবি জামায়াতের সাথে আদায় করা সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত। হাদিসে আছে, ‘যে ব্যক্তি ইমামের সাথে প্রস্থান করা অবধি সালাত (সালাতুত তারাবিহ) আদায় করবে, তাকে পুরো রাত কিয়ামুল লাইলের সওয়াব দান করা হবে।’ [আবু দাউদ : ১৩৭৭]

 
ইতিকাফ করা
ইতিকাফ অর্থ অবস্থান করা। অর্থাৎ মানুষদের থেকে পৃথক হয়ে সালাত, সিয়াম, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া, ইসতিগফার ও অন্যান্য ইবাদাতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্যে একাকী কিছু সময় যাপন করা। এ ইবাদাতের এত মর্যাদা যে, প্রত্যেক রমজানে রাসুলুল্লাহ সা. রমজানের শেষ দশ দিন নিজে এবং তাঁর সাহাবীগণ ইতিকাফ করতেন। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, ‘প্রত্যেক রমজানেই তিনি শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু জীবনের শেষ রমজানে তিনি ইতিকাফ করেছিলেন বিশ দিন।’ [বুখারি : ২০৪৪]। উল্লেখ্য, দশ দিন ইতেকাফ করা সুন্নাত।

 
লাইলাতুল কদর তালাশ করা
রমজান মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছেÑ ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ [সুরা কদর : ৪] রাসুল সা. আমাদের শেষ দশ দিন লাইলাতুল কদর তালাশ করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ। [বুখারি : ২০২০]। অথচ আমরা সেই দশ দিন ঈদের কেনা কাটায় ব্যস্ত থাকি, যা রমজানের আদবের পরিপন্থী। লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান-ইবাদাতে নারী-পুরুষ উভয়ে একই শ্রেণিভুক্ত। কারণ, রাসুল সা. এ অনুসন্ধানের মধ্যে তার পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়েছেন।

 
বেশি বেশি দান-সদকাহ করা
পুণ্য অর্জনের মাস রমজান। রোজা-নামাজ ইত্যাদির পাশাপাশি দান-সদকার মাধ্যমেও ফজিলত অর্জন করতে হবে। এ মাসে বেশি বেশি দান-সাদাকাহ করার চেষ্টা করতে হবে। এতিম, বিধবা ও গরীব-মিসকীনদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। যাদের উপর জাকাত ফরজ তারা হিসাব করে এ মাসে জাকাত দেয়া উত্তম। কেননা রাসুলুল্লাহ্‌ সা. এ মাসে বেশি বেশি দান খয়রাত করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল সা. ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল আর রমাজানে তাঁর এ দানশীলতা আরও বেড়ে যেত।’ [বুখারি : ১৯০২]

 
বেশি বেশি দোয়া-ইস্তেগফার করা
ইবাদতের মাস রমজানে বেশি বেশি আমলের কথা রয়েছে। কিন্তু আমরা অনেকেই ব্যস্ত থাকি দুনিয়াবি কাজে। এটা কাম্য নয়। এ মাসে বেশি বেশি দোয়া-ইস্তেগফার করা উচিত। হাদিসে এসেছে, ‘ইফতারের মূহূর্তে আল্লাহ তায়ালা বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। মুক্তির এ প্রক্রিয়াটি রমাজানের প্রতি রাতেই চলতে থাকে।’ [আল জামিউস সাগীর : ৩৯৩৩] অন্য হাদিসে এসেছে, ‘রমজানের প্রতি দিবসে ও রাতে আল্লাহ তায়ালা অনেককে মুক্ত করে দেন। প্রতি রাতে ও দিবসে প্রতি মুসলিমের দোয়া কবুল করা হয়।’ [আত-তারগিব ওয়াত তারহিব : ১০০২]

 
তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া
রমজান মাসে নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়া অত্যান্ত সওয়াবের কাজ। রমজান ছাড়াও সালাতুত তাহাজ্জুদ পড়ার মধ্যে বিরাট সওয়াব এবং মর্যাদা রয়েছে। রমজানের কারণে এ ফজিলত বহুগুণে বেড়ে যায়। যেহেতু সাহরি খাওয়ার জন্য উঠতে হয় সেজন্য রমজান মাসে সালাতুত তাহাজ্জুদ আদায় করার বিশেষ সুযোগও রয়েছে। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ অর্থাৎ তাহাজ্জুদের নামাজ।’ [মুসলিম : ২৮১২]

 

 

আরো পড়ুনঃ

 

Content Protection by DMCA.com

Check Also

জেনে নিন মেয়েদের স্বপ্নদোষ হয় কিভাবে

জেনে নিন মেয়েদের স্বপ্নদোষ হয় কিভাবে!

জেনে নিন মেয়েদের স্বপ্নদোষ হয় কিভাবে!   পুরুষের ঘুমের মধ্যে বীর্যপাতের ঘটনা বা স্বপ্নদোষ এর …

Loading...