Sastha Seba

November 19, 2024

ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারের নিয়ম-ক্যালামাইন লোশন মূল্য।

ক্যালামাইন লোশন (calamine lotion) খুবই পরিচিত এবং বহুল বিক্রিত একটি ওষুধ। গোলাপী রঙের এই লোশনটি আমরা সবাই কম বেশি ব্যবহার করেছি। যদিও চিকেন পক্স এর জন্যই ক্যালামাইন লোশনটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে এছাড়াও অন্যান্য ত্বকের সমস্যায়ও ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ক্যালামাইন লোশন
 
আজকের ব্লগে তাই চলুন জেনে নেই ক্যালামাইন লোশন কী, ক্যালামাইন লোশনের কাজ, ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারের নিয়ম ও ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ক্যালামাইন লোশন কিভাবে ব্যবহার করবেন, ক্যালামাইন লোশন দাম নিয়ে। এছাড়াও ক্যালামাইন লোশনের দামটাও জেনে নিবো।
 

পেজের সূচিপত্রঃ ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারের নিয়ম – ক্যালামাইন লোশন মূল্য।

  • ক্যালামাইন লোশন কী? (Calamine Lotion bangla)

  • ক্যালামাইন লোশন এর কাজ কী? (calamine lotion)

  • ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারের নিয়ম

  • ল্যাক্টো ক্যালামাইন লোশন কিভাবে ব্যবহার করবেন

  • ক্যালামাইন লোশন পক্স

  • ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী?

  • ক্যালামাইন লোশনের দাম কতো? – ক্যালামাইন লোশন বাংলাদেশ 

 

ক্যালামাইন লোশন কী?

ক্যালামাইন লোশন একটি খুবই পরিচিত একটি লোশন। যা কিনতে ডাক্তারের কোনো প্রেস্ক্রিপশনের প্রয়োজন হয় না। এই লোশনটি চুলকানির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। গোলাপী রঙের এই লোশনটি পোকামাকড়ের কামড়, চিকেন পক্স ও পয়জন আইভির মত অবস্থার কারণে সৃষ্ট চুলকানি ব্যথা এবং অস্বস্তি দূর করতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে ত্বকের জ্বালাপোড়া দূর করতেও এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই ওষুধটি শুধুমাত্র ত্বকের বাইরের অংশে ব্যবহারের জন্য কোন অবস্থাতেই এটি মুখে দেয়া অথবা সেবন করা যাবে না।

ক্যালামাইন লোশন এর কাজ কী?

ক্যালামাইন লোশন প্রধানত চুলকানি সমস্যা উপশম করতে ব্যবহৃত হয়। বিষাক্ত এক ধরনের উদ্ভিদ যেমন প্য়জন আইভী প্য়জন ওক, এবং পয়জন
সুমাক ত্বকে জ্বালাপোড়া বা চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে। ক্যালামাইন লোশন এসব বিষাক্ত উদ্ভিদ থেকে সৃষ্ট চুলকানি উপশম করতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি ত্বকের জ্বালাপোড়া কোন রকমের ফুসকুড়ি বা পুঁজ সৃষ্টিকারী সমস্যার সমাধানেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এছাড়াও যেসব সমস্যায় ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেগুলো হল:   

পোকামাকড়ের কামড়: 

পোকামাকড় কামড় দিলে অনেক সময় তীব্র চুলকানি বা ব্যথা হয়। এক্ষেত্রে ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে করে চুলকানিও কমবে এবং এই পোকামাকড়ের কামড়ের কারণে ত্বকের সৃষ্ট অন্যান্য সমস্যাও দূর হবে।

চিকেন পক্স: 

চিকেন পক্সের সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। চিকেন পক্স হলে জ্বর আসে, গায়ে তীব্র ব্যথা হয়, সে সাথে ফুসকুড়ি ওঠে ও চুলকায়। চুলকানি সমস্যার সমাধানে এবং ফুসকুড়ির জন্য ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। চিকেন পক্সে ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারে চুলকানি কমে ও আরাম পাওয়া যায়।

দাদ: 

এটিও ত্বকের একটি সমস্যা। দাদ হলে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের পাশাপাশি ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করতে পারেন এতে করে দাদের উপসর্গ আস্তে আস্তে কমে যাবে।

সাঁতারের চুলকানি: 

সাঁতার কাটার সময় দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকতে হয়। আবার যদি সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা হয় তাহলে পুলের পানিতে নানা রকমের কেমিক্যাল থাকে। যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এতে করে অনেকের ত্বকে চুলকানি হয় এবং ফুসকুড়ি ওঠে। এ সমস্যার সমাধানে ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে।

হিট র‍্যাশ: 

গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড তাপে ও গরমে অনেকের ত্বকেই র‍্যাশ উঠে। ফুসকুড়ির মত এই র‍্যাশ প্রচন্ড চুলকায়। হিট র‍্যাশের সমাধানেও ক্যালামাইন ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যায়। এতে করে আরাম মিলে।

স্ক্যাবিস: 

এক ধরনের ছোট ছোট মাইট আছে। যার কারনে ত্বকে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়। চুলকানি তার মধ্যে অন্যতম। এই চুলকানি কমাতে ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে ক্যালামাইন লোশন কিন্তু শুধুমাত্র চুলকানির উপশম করতে ব্যবহার করা হয়েছে। এটা মাইট গুলোকে মেরে ফেলতে পারে না।    

আমবাত: 

আমাদের ত্বকে নানা কারণে আমবাত হতে পারে। আমবাত হলে ত্বকে চুলকানি হয় ও ফুলে যায়। ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করলে ত্বকের অবস্থার
উন্নতি হয় এবং চুলকানিও কমে।  

 

ক্যালামাইন লোশনে কী আছে?

ক্যালামাইন লোশনে সক্রিয় উপাদান হিসেবে রয়েছে জিংক অক্সাইড এবং আয়রন অক্সাইড। এই আয়রন অক্সাইডের কারণেই ক্যালমাইন লোশন
গোলাপি রঙের হয়ে থাকে। এর অন্যান্য উপাদান গুলোর মধ্যে রয়েছে-

  • বিশুদ্ধ পানি
  • গ্লিসারিন
  • ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও
  • বেন্টোনাইট ম্যাগমা

 

ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারের নিয়ম

ক্যালামিন লোশন খুবই সহজলভ্য একটি ওষুধ। এই ওষুধটি শুধুমাত্র ত্বকের উপরের অংশে ব্যবহারের জন্য। ব্যবহারের আগে প্যাকেজে দেয়া নির্দেশনা গুলো দেখে নিবেন। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারের আগে বোতলটি ভালোভাবে ঝঁকিয়ে নিয়ে একটি তুলার বল বা নরম কাপড়ে কিছু লোশন ঢেলে নিতে হবে। তারপর আপনার ত্বকের আক্রান্ত অংশে ওষুধটি ড্যাব করে প্রয়োগ করতে হবে। ত্বকে নিজে নিজেই এ লোশনটি শুকিয়ে যাবে। প্রয়োজন বুঝে যতবার প্রয়োজন ততবার এই প্রক্রিয়ায় ওষুধটি প্রয়োগ করতে হবে।

কোন ক্ষতস্থানে ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যাবে না। চোখ, মুখ, নাক বা যৌনাঙ্গ এবং পায়ুর কাছাকাছি ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে। যদি এসব স্থানের আশেপাশে কোথাও লোশন যদি লেগে যায় তাহলে অবশ্যই সাথে সাথে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। আর কোন কারণে যদি এ ওষুধটি মুখের ভেতরে চলে যায় এবং সেটা যদি গিলে ফেলা হয় তাহলে অবশ্যই নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। 

ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারের পরও যদি এক সপ্তাহের মধ্যে ত্বকের অবস্থার কোন উন্নতি না হয় বা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। দু বছর বা তার বেশি বয়সের বাচ্চাদের ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যাবে। তবে অবশ্যই এক্ষেত্রে বড়দের তত্ত্বাবধায়নের প্রয়োজন রয়েছে। শিশুদেরকে দিনে চারবার পর্যন্ত ক্যালামাইন লোশন প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে দু বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহারের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ
নিতে হবে।  

 

ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী?  

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারের তেমন কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। তবে ওষুধ ব্যবহারের পরে যদি ত্বকে কোন ধরনের জ্বালা দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

সচরাচর এই লোশন ব্যবহারে কোনো অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন হয় না। তবে যদি কোন অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তার পরামর্শ দিতে হবে। অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশনের এর মধ্যে যেসব লক্ষণ দেখা দেয় সেগুলো হলো:

  •  ফুসকুড়ি ওঠা 
  • চুলকানি হওয়া
  • আমবাত হওয়া ও মুখ ফুলে যাওয়া।
  • মুখ, জিহ্ববা এবং গলা ফুলে যাওয়া
  • মাথা ঘোরা
  • গিলতে বা কথা বলতে অসুবিধা হওয়া
  • জ্বর আসা  

ক্যালামাইন লোশনের দাম কতো?

ক্যালামাইন লোশন খুবই সহজলভ্য একটি ওষুধ। এটি ক্রয় করতে কোনো প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয় না। এর দামও খুব কম। ১০০ মিলি ক্যালামাইন লোশনের দাম মাত্র ৩৮ টাকা। দাম অনেক কম হলেও নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে চিকেন পক্সের মতো গুরুতর ত্বকের সমস্যায় অনেক উপকার পাওয়া যায়।

পরিশেষে বলবো, ক্যালামাইন লোশন চুলকানির চিকিৎসায় ব্যবহৃত খুবই জনপ্রিয় একটি ওষুধ। এটা শুধু চিকেন পক্সের চিকিৎসায়ই যে ব্যবহৃত হয় তা কিন্তু নয়। তাই ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাকের গায়ে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

বাচ্চাদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে। এই লোশন ব্যবহারে তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকলেও যদি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।